সমবায়ের ইতিহাস

মানবসভ্যতার শুরু থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতার ধারণা থাকলেও, আধুনিক সমবায়ের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা ঘটে ইউরোপের শিল্পবিপ্লবের সময়। ১৭৬১ সালে স্কটল্যান্ডে গঠিত 'ফেনউইক উইভারস সোসাইটি' [Fenwick Weavers' Society] এবং ১৮৪৪ সালে ইংল্যান্ডে রচডেল শহরের শ্রমিকদের গড়া 'রচডেল ইকুইটেবল পায়োনিয়ার্স' [Rochdale Equitable Pioneers] সমবায় আন্দোলনের মূল ভিত্তি স্থাপন করে। সমবায় ইতিহাসের বিস্তারিত ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. সূচনা পর্ব (১৭৬১–১৮৪৪): রবার্ট ওয়েন [Robert Owen] ছিলেন সমবায় আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৮৪৪ সালে রচডেলের ২৮ জন তাঁতি মাত্র ২৮ পাউন্ড পুঁজি নিয়ে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্য প্রথম সফল সমবায় সমিতি চালু করেন। তাঁদের প্রণীত মূলনীতিগুলো আজও বিশ্বজুড়ে সমবায়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২. আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ (১৮৯৫): সমবায় আদর্শকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ১৮৯৫ সালে আন্তর্জাতিক সমবায় মৈত্রী [International Cooperative Alliance - ICA] গঠিত হয়। এটি সমবায় পরিচালনার মূলনীতি ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। ৩. ভারতীয় উপমহাদেশে সমবায় (১৯০৪): দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম সমবায়ের সূচনা হয় ব্রিটিশ আমলে। কৃষকদের ঋণ সংকট ও মহাজনদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথম 'সমবায় ঋণদান সমিতি আইন' পাশ করে। পরবর্তীতে ১৯১২ সালে বহুমুখী সমবায় সমিতি গঠনের জন্য আইনটি আরও বিস্তৃত করা হয়। ৪. বাংলাদেশে সমবায় (১৯৭১–বর্তমান): বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস অত্যন্ত সুদৃঢ়। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩(খ) অনুচ্ছেদে সমবায়কে মালিকানার অন্যতম খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের সমবায় খাতটি [Department of Cooperatives] পরিচালিত হচ্ছে ২০০১ সালের সমবায় সমিতি আইন ও ২০০৪ সালের সমবায় বিধিমালা অনুযায়ী। ,